পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেল রাব্বি
চট্টগ্রামে পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি নামে এক শিক্ষার্থী। ১০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারিয়েছিলেন তিনি। এরপর প্রথমে মুখ দিয়ে লেখা শুরু করেন। পরে পা দিয়ে লেখার কৌশল রপ্ত করে এসএসসিতে অর্জন করেছিল জিপিএ-৫। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন তার।
রাব্বি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বজলুর রহমানের ছেলে। অভাব-অনটনের সংসারে মা-বাবা দুজনই দৈনিক মজুরির কাজ করে সংসার চালান। এ কারণে ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর একটি বৈদ্যুতিক তারে আটকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় রাব্বি। তখন সে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দুই হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ নিয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েক মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলেও কেটে ফেলতে হয় দুই হাত।
এরপর শুরু হয় নতুন এক লড়াই। যে বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর পড়াশোনায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই রাব্বিকে শিখতে হয় হাত ছাড়াই জীবন চালানোর কৌশল। দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন না রাব্বি। কিন্তু তিনি থেমে যায়নি। প্রথমে মুখ দিয়ে কলম ধরে লেখার অনুশীলন শুরু করে। এভাবেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যায়। পরে দ্রুত লেখার জন্য পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করে রাব্বি। ধীরে ধীরে পায়ের আঙুলে কলম ধরে লেখা হয়ে ওঠে তার অভ্যাস। সেই পা দিয়েই পরীক্ষার খাতায় লিখে ২০২৪ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পায়। এবার চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতেও একই ফল অর্জন করেছে।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর ছেলের চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে নিতে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন। আইসিডিডিআরবির গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌস কাদেরী রাব্বির পড়াশোনার খরচ বহন করে আসছেন। এ ছাড়া ওসমান নামের এক শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে তাকে কোচিং করিয়েছেন। বিভিন্নজনের সহযোগিতায় ছেলেকে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা এবং পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞানী হওয়ার প্রবল ইচ্ছার কথা জানিয়ে অদম্য রাব্বি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়েই আমি থেমে থাকতে চাই না। আমি বিজ্ঞানী হতে চাই। সে জন্য বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।